প্রযুক্তি খাতের বৈশ্বিক প্রতিভাদের আকর্ষণে চীনে চালু হয়েছে নতুন ভিসা কর্মসূচি। ‘কে-ভিসা’ শীর্ষক এ উদ্যোগ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রযুক্তি শিল্প উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ। অবশ্য চীনের অভ্যন্তরে অনেকেই কর্মসূচিটি নিয়ে সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ বলছে, নতুন ভিসার কারণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে চাকরির প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হবে। খবর এফটি।
চীন সরকারের মুখপত্র পিপলস ডেইলি জানিয়েছে, ‘কে-ভিসা’ মূলত যোগ্য তরুণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করার জন্য তৈরি হয়েছে। ভিসাধারীরা শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ব্যবসা ও উদ্যোক্তা খাতে কাজের সুযোগ পাবেন। এতে অন্য ভিসার মতো নিয়োগকর্তার স্পন্সরশিপ লাগবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এ স্কিম বিশেষভাবে ভারত, রাশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দক্ষ এসটিইএম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) কর্মীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি সাংহাইয়ের অধ্যাপক হান শেন লিন বলেন, ‘আমি আশা করি ভারত, রাশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে কর্মীদের আগমন বাড়বে। এসব অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম খরচে বিপুল পরিমাণ প্রতিভা পাওয়া যায়।’
দানস্কে ব্যাংকের চীনবিষয়ক অর্থনীতিবিদ অ্যালান ভন মেহরেন বলেন, ‘যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি আরোপ করেছেন, চীন সেখানে উল্টো পথে হাঁটছে।’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উদ্যোগটি চীনের অভ্যন্তরে জাতীয়তাবাদ ও বিদেশী-বিদ্বেষী প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। দেশটির যুব বেকারত্বের হার আগস্টে প্রায় ১৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাদের দেশে লাখ লাখ এসটিইএম গ্র্যাজুয়েট তৈরি হয়। তাহলে বিদেশী প্রতিভার দরকার কী? কেউ কেউ আবার ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা দেয়াকে সীমান্ত সংঘর্ষে নিহত চীনা সেনাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সমালোচনার মুখে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে উদ্যোগটির পক্ষে সরব হতে হয়েছে। পিপলস ডেইলি লিখেছে, কেউ কেউ এ নীতিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছেন এবং জনগণের মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। চীনের মোট মানবসম্পদ প্রচুর হলেও উচ্চস্তরের প্রতিভার ঘাটতি এখনো রয়েছে, বিশেষ করে উৎপাদন শিল্প, বায়োমেডিসিন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন, এ ভিসা মূলত বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত বা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন তরুণদের আকৃষ্ট করবে। ভারতের মতো দেশে শক্তিশালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্নাতককর্মী ধারা থাকায় সেখানে থেকে প্রতিভা আসতে পারে।
ভারতের মুম্বাইভিত্তিক থিংক-ট্যাংক গেটওয়ে হাউজের নির্বাহী পরিচালক মঞ্জিত কৃষ্ণপাণি বলেন, ‘এ কর্মসূচি মিড-ক্যারিয়ারের ভারতীয়দের আকৃষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে যারা পরিবার নিয়ে চীনে এলে পূর্ণ সুবিধা ও নির্দিষ্ট প্রকল্পে অংশ নেয়ার নিশ্চয়তা পাবে।’
বিশ্লেষক ক্রিস বেডর বলেন, ‘চীন এখানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তারা অনেক বছর ধরে আন্তর্জাতিক প্রতিভা টানার চেষ্টা করছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শক্তিধর হওয়ার জন্য এ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে।’